خواندن› دفتر ۱› بخش ۶۹ - قصهٔ آدم علیهالسلام و بستن قضا نظر او را از مراعات صریح نهی و ترک تاویل› بیت ۱۲۴۰
M1:1240 — بوالبشر کو علم الاسما بگست / صد هزاران علمش اندر هر رگست
M1:1240
شرح و معنا · به زبانِ تو — AI
এই শ্লোকটি বলছে যে মানবজাতির পিতা আদম (আঃ) ঈশ্বরের কাছ থেকে যে জ্ঞান লাভ করেছিলেন, তা কোনো সাধারণ জ্ঞান ছিল না। এটি ছিল এক গভীর ও সত্তাগত জ্ঞান যা তাঁর অস্তিত্বের প্রতিটি কণার সাথে মিশে ছিল।
রুমির এই শ্লোকটি কুরআনের সেই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে যেখানে আল্লাহ আদমকে (আঃ) ‘সকল নাম শিক্ষা দিয়েছিলেন’ (علم الأسماء)। রুমি এখানে ব্যাখ্যা করছেন যে এই জ্ঞান নিছক তথ্য বা শব্দ শেখা ছিল না, বরং এটি ছিল প্রতিটি বস্তুর প্রকৃত সারবত্তা, তার অন্তর্নিহিত সত্য এবং আধ্যাত্মিক বাস্তবতা জানার ক্ষমতা।
এই জ্ঞান আদমের সত্তার গভীরে প্রোথিত ছিল, তাঁর ‘প্রতিটি শিরায়’ প্রবাহিত ছিল। এটি একটি অর্জিত পাণ্ডিত্য নয়, বরং এক ঈশ্বর-প্রদত্ত অন্তর্দৃষ্টি যা তাঁকে বস্তুজগতের বাহ্যিক রূপের আড়ালের সত্যকে দেখতে সাহায্য করত। পরবর্তী শ্লোকগুলিতে রুমি এই ধারণাটিকে আরও স্পষ্ট করেছেন। যেমন, মুসার (আঃ) কাছে যা ছিল একটি লাঠি, স্রষ্টার কাছে তার আসল নাম ছিল ‘ড্রাগন’। একইভাবে, আমরা যাকে বাহ্যিকভাবে দেখি, তার আসল পরিচয় হয়তো ঈশ্বরের কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সুতরাং, এই শ্লোকের মূল বার্তা হলো—প্রকৃত জ্ঞান হলো বস্তুর ঐশ্বরিক বাস্তবতা বা ‘নাম’ জানা, যা কেবল নবীদের মতো নির্বাচিত আত্মাদেরই দেওয়া হয়। এই জ্ঞান যুক্তিতর্ক বা ইন্দ্রিয় দিয়ে পাওয়া যায় না, এটি আধ্যাত্মিক উন্মোচনের ফল। আদমের এই জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তিনি যে ভুল করেছিলেন, রুমি সেই विरोधाभास ব্যবহার করে দেখান যে এমনকি সর্বোচ্চ জ্ঞানও ঐশ্বরিক ফরমান বা ‘কাজা’-র (قضا) কাছে অসহায় হতে পারে।
- بوالبشر
- মানবজাতির পিতা; হজরত আদম (আঃ)-এর একটি উপাধি।
- علم الاسما
- ‘সকল নামের জ্ঞান’; কুরআনের একটি ধারণা যেখানে আল্লাহ আদমকে (আঃ) সমস্ত জিনিসের নাম (এবং তাদের অন্তর্নিহিত প্রকৃতি) শিখিয়েছিলেন।
- بگست
- তিনি পেয়েছিলেন বা গ্রহণ করেছিলেন; এখানে অর্থ হলো ঈশ্বর কর্তৃক তাঁকে এই জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল।
Discussion — Ask about this beyt — answered from the Masnavi, every verse cited
Your conversation stays on this device unless you share it.
What readers asked0
No questions shared yet — yours could be the first.