خواندن› دفتر ۱› بخش ۶۹ - قصهٔ آدم علیهالسلام و بستن قضا نظر او را از مراعات صریح نهی و ترک تاویل› بیت ۱۲۵۵
M1:1255 — این همه دانست و چون آمد قضا / دانش یک نهی شد بر وی خطا
M1:1255
شرح و معنا · به زبانِ تو — AI
আদম (আঃ) সবকিছু জানতেন, কিন্তু যখন ঈশ্বরের চূড়ান্ত ফরমান (ক্বাযা) উপস্থিত হলো, তখন নিষিদ্ধ বৃক্ষের ব্যাপারে একটিমাত্র নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত জ্ঞান তাঁর কাছে ভুল বলে প্রতিভাত হলো।
রুমির এই বর্ণনায়, আদম (আঃ) নিছক একজন ভুলোমনা ব্যক্তি নন, বরং তিনি এক গভীর জ্ঞানের অধিকারী। ঈশ্বর তাঁকে সকল বস্তুর নাম ও অন্তর্নিহিত সত্তা (M1:1252) শিখিয়েছিলেন, যা দিয়ে তিনি ফেরেশতাদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু রুমির মূল বক্তব্য হলো, মানুষের জ্ঞান যতই গভীর হোক না কেন, তা ঈশ্বরের অমোঘ বিধান বা 'ক্বাযা'-র (قضا) সামনে অসহায়।
'ক্বাযা' এখানে কোনো অন্ধ নিয়তি নয়, বরং এটি এক ঐশ্বরিক পরিকল্পনা যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে সাময়িকভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আদমের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তাঁর জ্ঞান ছিল, কিন্তু 'ক্বাযা'-র প্রভাবে সেই জ্ঞান কার্যকরী হলো না। তিনি ঈশ্বরের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞাটিকে ('নাহি') ব্যাখ্যা বা 'তাবিল' (تأويل) করার চেষ্টা করলেন (M1:1256)। তিনি ভাবলেন, এই নিষেধাজ্ঞা হয়তো চূড়ান্ত নয়, এর অন্য কোনো অর্থ থাকতে পারে। এই বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বিধা ও ব্যাখ্যার প্রবণতাই তাঁকে ভুলের দিকে ঠেলে দেয়।
সুতরাং, এই পঙক্তিটি জ্ঞান ও কর্মের মধ্যেকার এক গভীর রহস্যকে তুলে ধরে। রুমি বলতে চাইছেন যে, ঐশ্বরিক পরিকল্পনার মুহূর্তে মানুষের অর্জিত জ্ঞানও মেঘে ঢাকা সূর্যের মতো নিষ্প্রভ হয়ে যেতে পারে। তখন অহংকার বা বুদ্ধির উপর নির্ভর না করে, ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণ এবং সরল বিশ্বাসই একমাত্র পথ। আদমের পরবর্তী অনুশোচনা ('রব্বানা যালামনা', M1:1260) এই আত্মসমর্পণেরই প্রতীক।
- قضا
- ঐশ্বরিক বিধান, ঈশ্বরের অমোঘ ফরমান বা ডিক্রি, নিয়তি।
- نهی
- নিষেধাজ্ঞা, বারণ, নেতিবাচক আদেশ।
Discussion — Ask about this beyt — answered from the Masnavi, every verse cited
Your conversation stays on this device unless you share it.
What readers asked0
No questions shared yet — yours could be the first.